ইউনানীর সাময়িক সনদ নিয়ে ১২ বছর ধরে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা প্রদান!

রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের মতিঝিল শাখায় এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র‌্যাব। এছাড়া হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ অপারেশন সামগ্রী ও ইনজেকশন জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।

মিজানুর রহমান। পাশ করেছেন ইউনানী। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলছেন ইউনানী চিকিৎসকরা নামের আগে ডাক্তার পরিচয় ব্যবহার করতে পারেন না। তবে শুধু ডাক্তার নয় তিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। ১২ বছরে ধরে এভাবে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের মতিঝিল শাখায় দেখা যায় এমন চিত্র। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে এই ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলেন, সত্যি খুব অবাক হয়ে গিয়েছি। উনার প্রেসক্রিপশন করা ওষুধ যদি আব্বুকে খাওয়াতাম তাহলে কি যে হত।

ওই চিকিৎসক নিজের ত্রুটি ও অযোগ্যতার কথা অকপটে স্বীকারও করলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ভুল স্বীকার করে ওই চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধের ঘোষণা দেন।

এঘটনার জন্য ভুয়া চিকিৎসককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সহকারি সুপারিনটেনডেন্টকে সাড়ে লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেয়া হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, উনি প্রতিনিয়ত এখানে অ্যালোপ্যাথি ওষুধের প্রেসক্রিবশন দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও সিবিসি টেস্টসহ হৃদরোগের প্রেক্রিবশন করে যাচ্ছিলেন। 

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল শাখার মেডেকেল অফিসার আমিনুল হাই বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখিত। আমাদের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ইতোমধ্যে ওই ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

একই ভাবে হাসপাতালটির ইনডোর  ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন অপারেশনের সার্জিক্যাল সামগ্রী ও ই্নজেকশন পাওয়ায় দুই জনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল দেয়া হয়। 

তথ্যসূত্রঃ সময় টিভি

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!