এসডিএফ’এর চেয়ারম্যান হলেন শেরপুরের কৃতি সন্তান সি. সচিব আব্দুস সামাদ!

সোশাল ডেভেলপমেন্ট ফাউণ্ডেশন (এসডিএফ)’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ীর কৃতি সন্তান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব আব্দুস সামাদ ফারুক । এসডিএফ Social Development Foundation Under Ministry Of Finance Banks Financial Institution Division এর অন্তর্ভূক্ত।

৮ জুন সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব মুর্শেদা জামান সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ্য শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃতি সন্তান আব্দুস সামাদ ফারুক নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিবের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সচিব হয়েছেন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আবদুস সামাদ ফারুক বলেন SDF এর চেয়ারপার্সন নিয়োগে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য। আসুন সবাই মিলে কাজ করে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

আব্দুস সামাদ ফারুক ১৯৬১ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং’এ বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে মার্কেটিং’এ এমবিএ করেন। বিভিন্ন সময়ে দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপ, মিটিং ও সেমিনার উপলক্ষে বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৯৮৯ সালে জাইকার উদ্যোগে ইউথ ডেলিগেশন নিয়ে জাপান সফর তাদের অন্যতম। পেশাগত পরিচিতির বাইরে তিনি একজন কবি। তাঁর লেখা একাধিক কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশিরে জীবন কল্লোল, শুভ্র সমুজ্জ্বল, ঘাস ফড়িংয়ের জোৎস্না স্নান উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন। শেরপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নাজমুলের উপর তাঁর লেখা জল জোছনায় নাজমুল বহুল প্রশংসিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জীবনী গ্রন্থ।

মো. আবদুস সামাদ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮৬ সালে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এজিএম হিসেবে। তিনি ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব পদে যোগ দেন। তিনি ১৯৯১ হতে ১৯৯৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সাল হতে ১৯৯৯ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় এবং ১৯৯৯ হতে ২০০১ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন। ২০০৩ হতে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি নেত্রকোনা জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ হতে ২০০৮ পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯-২০১১ সালে তিনি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার নিযুক্ত হন। পরে ২০১৭ সালে তিনি নৌ-পরিবহন সচিব পদে পদোন্নতি পান।

এছাড়াও উল্লেখ্য তিনি জামালপুর ও শেরপুর জেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাবেক স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী, মৎস, কৃষি, বন ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর আব্দুস সালাম তার ভাগ্নী জামাই। তিনি এসডিএফ’এর পদে নিয়োগ পাওয়ায় চাকুরি জীবনে তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু,আত্নীয়-স্বজন, নালিতাবাড়িসহ বহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সদস্যবৃন্দরা অনেক খুশি ও আনন্দিত হয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার সুস্বাস্থ্য এবং কর্মময়জীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম,
জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published.