কলেজ শিক্ষিকা থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প!

রাবেয়া সুলতানা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। তিনি Green Craft প্রতিষ্ঠান এর CEO. এছাড়া তিনি ফেনী ন্যাশনাল কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক। চাকরি, ব্যবসায়ের পাশাপাশি তিনি নারীদের প্রশিক্ষণ মাধ্যমে তাদের কে আত্মকর্মসংস্থান মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছেন। আজকে আমরা তার কাছ থেকে জানবো শত বাধা পেরিয়ে কিভাবে তিনি উদ্যোক্তা হয়েছেন এবং তরুনদের জন্য তার মূল্যবান পরামর্শ।

আপনার ছোটবেলা এবং শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাইঃ-

Rabeya sultana:- আমার জন্ম হয়েছে ১৯৮৮ সালে লক্ষীপুর জেলায়। ৪ ভাই-বোনের ভিতর আমি সবচেয়ে বড় ছিলাম। আমার বাবা একটি হাইস্কুলের গনিতের শিক্ষক ছিলেন। বিরাহিমপুর প্রাইমারি স্কুল থেকে আমি প্রাইমারি পাশ করি। তারপর বাবা যে স্কুলে চাকরি করতেন সেখান থেকে এসএসসি পাশ করি। এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা আইডিয়াল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করি। ইন্টারে পড়াকালীন আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ে হলেও আমি পড়াশোনা ছেড়ে দি নি। বিয়ের পর স্বামী এবং বাবার অনুপ্রেরণায় আমি অনার্স-মাস্টার্স শেষ করি। মাস্টার্স শেষ করে ফেনী ন্যাশনাল কলেজে প্রভাষক হিসেবে ২০১৬ সালে জয়েন করি।

Green Craft শুরুর গল্পটা যদি বলেন।

Rabeya Sultana:- পড়াশোনা শেষে আমি কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকুরী শুরু করি। চাকুরী করার সময় আমি খেয়াল করলাম যে আমার হাতে অনেক সময় বাকি থাকে কলেজ থেকে এসে। তাই ওই সময়টাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নি। তখন আমার মাথায় ব্যবসা করার চিন্তা আসে। এবং, আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেশি পণ্য কে বেঁচে নিলাম। পাট আমাদের দেশের ঐতিহ্য, দেশের সম্পদ, দেশের ভিতরে ও বাইরে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং এটি পরিবেশ বান্ধব। তাই পাট নিয়ে ব্যবসা শুরু করি।

বর্তমানে পাটের পণ্যের পাশাপাশি একাধিক পণ্য যুক্ত করেছি।

নারীরা ব্যবসা করতে গিয়ে পারিবারিক বা সামাজিক অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয় আপনার ক্ষেত্রে কি এরকম কোন সমস্যা ঘটেছে? আর ঘটলেও আপনি তা কিভাবে সমাধান করেছেন?

Rabeya sultana:- নারীদের ব্যবসা করতে গিয়ে পারিবারিক বা সামাজিক অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। অনেক লোকের ঠাট্টা শুনতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ছিলো না। কিন্তু, মানুষ কি বলবে আমি এগুলো নিয়ে কখনো ভাবতাম না। আমাদের সব মেয়েদের ভিতর প্রচন্ড প্রতিভা আছে। কিন্তু, মানুষের সমালোচনার ভয়ে আমাদের অনেকের প্রতিভা কখনো বিকাশ ঘটে না। আমি আমার সংসার, পরিবার, চাকুরী সামাল দিয়েই ব্যবসা শুরু করেছি। সে ক্ষেত্রে আমার মা-বাবা ও স্বামী সবসময় সাহায্য করেছেন।

শিক্ষকতা নাকি ব্যবসা কোন টি প্রতি আপনি সবচেয়ে বেশি প্যাশনেট?

Rabeya sultana:- শিক্ষকতা এবং ব্যবসা দুটিকেই আমি অনেক ভালোবাসি। শিক্ষকতা আমার অনেক পছন্দের একটা পেশা। ছোটবেলা থেকে আমার অনেক ইচ্ছে ছিলো শিক্ষক হওয়ার। তাই,এটা থেকে যেমন আমি নিজেকে কখনো আলাদা করতে পারবো না তেমনি ব্যবসাটাও আমার নিজের প্রতিষ্ঠান। আমি এটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। আসলে, আমি ২ টি প্রতিষ্ঠান কে সমানভাবে ভালোবাসি।

Green Craft কে আগামী ৫ বছর পর কোথায় দেখতে চান?

Rabeya sultana:- green craft কে আগামী ৫ বছরের ভিতর আমি একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই। আমি মূলত এমন কিছু পণ্যে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি যেগুলো দেশ এবং দেশের বাহিরে চাহিদা থাকবে। সে লক্ষ সামনে রেখে আমি পাট নিয়ে প্রথমে কাজ শুরু করি। কারণ, এটি একসময় বাংলাদেশের সেরা অর্থকারী ফসল ছিল। দেশ এবং দেশের বাহিরে বর্তমানে এটির অনেক চাহিদা রয়েছে। তাই, আমি স্বপ্ন দেখি আমার পাট পণ্যে গুলো একসময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এছাড়াও আমি সুপারি পাতা দিয়ে তৈরি প্লেট,বাটি, জামদানি শাড়ি, বুটিক্স পণ্য নিয়ে কাজ করছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আমার পণ্য কিনছে। কর্পোরেট থেকে ও অনেক কোম্পানি Green Craft এর পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।

তরুনরা যারা উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি থাকবে?

Rabeya sultana:- তরুনদের অবশ্যই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। এবং, পড়াশোনা পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। যে আইডিয়া নিয়ে সে ব্যবসা করতে চায় তাকে ওই বিষয়ে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। যারা ব্যবসা করছে তাদের সাথে মিশতে হবে। তারা ব্যবসায়ের বাধাগুলো কিভাবে সমাধান করছে তা তাদের থেকে জেনে নিতে হবে। তারা যে স্বপ্ন দেখবে তা বাস্তবায়ন করার জন্য লেগে থাকতে হবে। ব্যবসায়ে ব্যার্থতা আসবে। হাল ছেড়ে না দিয়ে বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। কেউ যদি লেগে থাকতে পারে তাহলে সে নিশ্চিত একদিন সফল উদ্যোক্তা হবেই। একটা আইডিয়া ব্যর্থ হলেও অন্য কোন আইডিয়া সফল হবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। Green Craft প্রতিষ্ঠান এর সফলতা কামনা করছি।

রিপোর্টারঃ শাহাদাত হোসেন রিদয়, ­ফেনি ন্যাশনাল কলেজ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *