কে এই কীংবদন্তী বীর জেনারেল কাশেম সুলাইমানি??

জেনারেল কাশেম সুলাইমানি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। আয়াতুল্লাহ খামেনির পর জেনারেল সুলাইমানিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে গণ্য করা হয় পৃথিবীর ‘এক নম্বর’ জেনারেল হিসেবে বিবেচিত সোলাইমানির নাম ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদের হিট লিস্টের ‘এক নম্বরে’। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

কাশেম সোলাইমানি মূলত সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সেসময় তিনি ‘সারুল্লাহ’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ওই যুদ্ধে তার অবদানের প্রশংসা করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

কাশেম সুলাইমানি ১১ই মার্চ ১৯৫৩ সালে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে, তিনি কারমান শহরে চলে এসেছিলেন এবং তার বাবা ঋণ পরিশোধের জন্য নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি কারমান ওয়াটার অর্গানাইজেশনের ঠিকাদার হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন। কর্মক্ষেত্রে না থাকাকালীন, তিনি স্থানীয় ব্যায়ামগুলিতে ওজন তোলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার একজন প্রবর্তক হোজ্জাত কাম্যবের উপদেশে তাঁর সময় কাটিয়েছিলেন।

তেহরানের আঞ্চলিক শত্রু সৌদি আরব ও ইসরাইলের মাথাব্যথার কারণ ছিলেন কাশেম সোলাইমানি। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার বীরত্বপূর্ণ অবদান সবার নজরে আসে। গত ২০ বছরে বহুবার যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আরবের বিভিন্ন সংগঠন তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তবে, প্রতিবারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বারবার পরাজয়ের মুখে পড়লে, তার সমর্থনে এবং ইরানের বাইরে অভিযানের দায়িত্ব নেয় কাশেম সোলাইমানির কুদস বাহিনী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সফলভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ও ইরাকের ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করেন।

কাশেম সোলাইমানি ইরানের পূর্ব সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও সফল ছিলেন তিনি। ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের দমন করেন এবং সেখানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।

১৯৯৮ সালে কাশেম সোলাইমানি কুদস বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। এসময় তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কের ইতি ঘটান এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। একইসঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি।

কাশেম সুলাইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনীর ও শিয়া নেতাদের সংস্পর্শে থাকার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনায় ছিলেন। যদি তিনি ইরানে জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত কিন্তু সিরিয়ার বাশার আল সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। আরো অভিযোগ আছে তিনি সুন্নি দমনে সাহায্যে করেছেন।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান স্টাডিজের প্রধান মোহাম্মদ মারান্দি বলেছেন, “আইএসআইএলকে পরাজিত করতে কাশেম সোলাইমানি মূল ভূমিকা পালন করেন। আর এজন্য তিনি ইরানি জনগণ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের কাছে ‘জাতীয় বীর’ খেতাব পেয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “কাশেম সোলাইমানি না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলজুড়ে হয়তো কালো পতাকা উড়তে দেখতো বিশ্ব।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একবার জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে ‘ইরানি বিপ্লবের জীবন্ত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *