গতানুগতিক বাজেট,দুর্নীতি বন্ধ না করলে দেশের কোন সুফল বয়ে আনবে নাঃ বাংলাদেশ কংগ্রেস

সদ্য ঘোষিত বাজেটকে গতানুগতিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। বৃহস্পতি বার ১১ জুন ২০২০ রাত ৯টা ৩০মিনিটে অনুষ্ঠিত দলের এক ভার্চুয়াল মিটিঙে ”কেমন বাজেট হলো’’ শীর্ষক আলোচনা দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ বাজেট দেশকে চমকিত হওয়ার মতো নতুন কিছু দিতে পারবে না।

দলের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মিটিঙে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর বাজেট পরবর্তী যে দুর্নীতি ও অপব্যবহার তা বন্ধ করার কোন কার্যকর দিক নির্দেশনা এই বাজেটে রাখা হয়নি। সুতরাং বাজেট লুটপাটের ঘটনা আগের মতোই ঘটবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ পরিচালনায় দক্ষ ও মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য বাজেটে অন্যান্য বারের মতো এবারও কোন বরাদ্দ বা পরিকল্পনা রাখা হয়নি। অথচ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জবাবদিহিতার মধ্যে এনে আলোকিত নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে বরাদ্দের আওতায় আনা উচিৎ ছিল। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বাজেটে রাজস্ব ব্যবস্থার সংষ্কার বা কর সহজীকরণ সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা নেই বলে মতামত দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাজেটকে দেশের কল্যাণে আনতে এর আকার না বাড়িয়ে দুর্নীতি ও অপব্যবহার কমানোর তাগিদ দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল মোর্শেদ। করোনার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আসন্ন গণছাটাই রোধে বাজেটে তেমন কোন পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি বলে মনে করেন দলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এম. তাহের উদ্দিন। লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এ আর সিকদার বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং বাজেটের অপব্যবহার রোধে দলীয় ভূমিকা থাকতে হবে।

দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ন্যাশনাল সিনেটের সদস্য এ্যাডঃ জিয়াউর রশিদ বলেন, প্রতি বছর বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হলেও বাজেট নির্ভর দুর্নীতি ও অপব্যবহার জনিত কারণে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। দুর্নীতি ও অপব্যবহার রোধে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা রাখা উচিৎ ছিল। দলের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, বাজেটে নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরে প্রণোদনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে যা বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিৎ ছিল সব সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা। বাজেটকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি উল্লেখ করে দলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম বলেন, সরকারের প্রত্যেকটি সেক্টরে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে।

দুর্নীতি বন্ধ না করলে সাড়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার এত বৃহৎ বাজেট শুধু দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী করবে, দেশের বড় কোন সুফল বয়ে আনবে না। বাজেট ঘোষণার সাথে বাজার মনিটরিঙের আহবান জানিয়ে দলের দপ্তর সম্পাদক তুষার রহমান বলেন, বাজেটকে কেন্দ্র প্রতি বছর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, কিন্তু সরকার সেদিকে নজর দেয় না। সরকারের উচিৎ বাজেট পরবর্তী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করা। মেহেরপুর থেকে দলের জেলা সদস্য সচিব রাহাতুল হোসেন ও মেহেরপুর সদর কমিটির সদস্য সচিব আল মাসুম আলী ভার্চুয়াল মিটিঙে যোগ দেন। বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মিটিঙে সময় মতো বাজেট প্রদান করায় সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া হয় এবং ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *