চাকুরির জন্য শিক্ষার্থীদের যে কাজগুলো এখনই করা উচিত।

​আমরা যারা দেশে বিদেশে কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি তাদের প্রায় ৮০ ভাগেরই স্বপ্ন পড়ালেখা শেষে একটি ভাল চাকরি পাওয়া। বাকি ২০ ভাগ ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে নিজেকে জড়াতে চান। আমরা হয়তো জেনে থাকবো যে বাংলাদেশে চাকুরীর যে অবস্থা তাতে কখনো কখনো একটি পদের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ২০০ জন পর্যন্ত প্রতিযোগী থাকে। কখনো কখনো এই মাত্রা কে অতিক্রম করে যায় ।

​এত প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজেকে ইউনিক ভাবে উপস্থাপন করতে হলে আমাদের ছাত্রজীবন থেকেই নিম্নোক্ত কাজগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার। যা আমাদের চাকরির ক্ষেত্রে দু্ই ধাপ এগিয়ে রাখবে । তাহলে জেনে নেওয়া যাকঃ

​১. নির্দিষ্ট একটি কাজ আয়ত্ত করাঃ
ডিপ্লোমা/ বিএসসি দু ক্ষেত্রে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সব কাজের কিছু না কিছু জানা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি আমরা কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালোভাবে না দক্ষ হই তবে তা আমাদের চাকরির আবেদনের সময়ে আত্মবিশ্বাসের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়। আমরা দোটানায় পরে থাকি, ভাবি এটা তো প্রফেশনাল কাজ আর আমিতো জানি কিছুটা।

২. কয়েকটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করাঃ
জব মার্কেটে খুললেই এখন দেখা যায় সবারই প্রায় চাহিদা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি। ফ্রেশারদের যেহেতু চাকরির অভিজ্ঞতা নেই সেক্ষেত্রে এই প্রোজেক্ট গুলোই এই দৌড়ে এগিয়ে রাখবে খানিকটা। অতএব সকলেরই ভালো ভালো প্রোজেক্টের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

​৩.  কম্পিউটার স্কিলঃ
বর্তমান সময়ে কম্পিউটার দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টপ লেভেল থেকে শুরু করে লো লেভেল পর্যন্ত সব চাকরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার জানা অত্যাবশ্যক। তাই দেরি না করে শিক্ষার্থীদের উচিত হবে এখনই কম্পিউটার অফিস প্রোগ্রাম এর কাজ গুলো জেনে রাখা। 

​৪. কমিউনিকেশন স্কিলঃ
অন্যান্য দক্ষতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যোগাযোগের দক্ষতা। এটি না থাকলে আমাদের চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা ০%।  ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে চাকরির প্রমোশন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও কমিউনিকেশন স্কিল অনেক দরকারি। এর জন্য এখন থেকেই যোগাযোগের দক্ষতা ও ইংরেজিতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত। 

​৫. সিভি তৈরিঃ
চাকরির প্রথম ধাপ সিভি। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় পাস করার পর যখন চাকরির জন্য কাউকে সিভি পাঠাতে বলা হয় তখন অনেকেই বড় ভাই কিংবা ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে সিভি খুজতে থাকেন। এর ফলে আমরা অনেকেই সিভির কোয়ালিটি থেকে দূরে সরে যাই। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত পাস করার পূর্বেই একটি ভালো সিভি তৈরি করা। 

উল্লেখিত কাজগুলো যদি আমরা গ্রাজুয়েশন শেষ করার পূর্বেই করে থাকি তবে আশা করা যায় চাকরির প্রতিযোগিতায় আমরা একটা ভালো অবস্থানেই থাকবো, ইনশাআল্লাহ। 

আশরাফ সিদ্দিকী
কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর 
মুসলিম এইড ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, ঢাকা। 

Sharing is caring!

One thought on “চাকুরির জন্য শিক্ষার্থীদের যে কাজগুলো এখনই করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *