‘তিন ডোজ’ টিকা নেওয়া যুবককে মেডিকেল টিম পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

একসঙ্গে করোনাভাইরাসের ‘তিন ডোজ’ টিকা নেওয়া যুবক ওমর ফারুককে (২৪) মেডিকেল টিমের সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে মেডিকেল টিম পরিচয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে ওমর ফারুককে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। তাঁরা বলেছেন, মেডিকেল টিমের সদস্যরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এরপর সারা দিন কোনো খবর না পেলেও সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওমর ফারুক তাঁর মা রহিমা বেগমকে ফোন করে জানান, তিনি হাসপাতালে আছেন, সুস্থ আছেন।

এ বিষয়ে ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তিন ডোজ টিকা নেওয়ার পর তাঁর ভাইয়ের শরীরে হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা হয়েছিল। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। টিকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে বিএসএমএমইউতে যাওয়ার জন্য অনেকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ভাই ভয়ে ফোন না ধরে পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে বুধবার দুপুরে মেডিকেল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে তাঁর ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে।

ফারুকের বোন বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর স্বামী গোলাম সারোয়ার নাহিদকে দেওয়া হলেও তাকে রেখে গেছেন ওই টিমের সদস্যরা।

ফারজানা জানান, চার বছর আগে ওমর ফারুক স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। দীর্ঘ দিন বেকার থাকার পর সম্প্রতি সৌদি আরব যাওয়ার ভিসা হয় তাঁর। সৌদি আরব যাওয়ার আগে টিকার জন্য নিবন্ধন করে গত ২৬ জুলাই হাসপাতালে টিকা নিতে গেলে ফারুককে তিন ডোজ টিকা দেওয়া হয়।

ফারজানা অভিযোগ করেন, যেখানে মানুষকে একটি টিকা পেতে হয়রানি পোহাতে হয়, সেখানে তাঁর ভাইয়ের শরীরে কীভাবে তিন ডোজ টিকা দেওয়া হলো, সেটি তদন্ত করা উচিত। যারা ওই বুথের দায়িত্বে ছিলেন তাদের ভুলের কারণে তাঁর ভাই তিন ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তিন ডোজ টিকা নেওয়ার পরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যও কেউ আসেনি।’ ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জানা নেই, তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ওমর ফারুক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভুঁইগড় এলাকার জামাল হোসেন প্রধানের ছেলে। ওমর ফারুকের চার বয়সী এক ছেলে আছে। তাঁর বাবা পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক।

source- prothom alo

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *