দুশ্চিন্তা কাটানোর ইন্দ্রেজাল!

আপনি কি দ্রুত কাজ দেয় এমন কোন দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় জানতে চান, যা কাজে লাগিয়ে আপনি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন? এটা চাইলে আসুন আমরা উইনিস এইচ ক্যারিয়ারের পদ্ধতি থেকে দুশ্চিন্তা কাটানোর উপায় সম্পর্কে জেনে নিই।

মাত্র তিনটি সরল স্টেপ ফলো করে যে কেউ অতি সহজেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারে। সেগুলো হলোঃ ★স্টেপ—১: নিজেকে প্রশ্ন করুন, সবচেয়ে খারাপ কি হতে পারে? জ্বি, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে আপনার বিফলতার জন্য সবচেয়ে খারাপ কি হতে পারে? আপনার বিফলতার জন্য আপনাকে কেউ জেলে দিবে না বা গুলি করে মারবে না। এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন। আপনার কি চাকরি চলে যেতে পারে? আপনি কি অর্থনৈতিক ভাবে ২০,০০০ (বিশ হাজার) ডলার‌ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন? আপনার কি সুনাম এ আঘাত হানতে পারে? সবচেয়ে খারাপ কি হতে পারে, নিজেকে প্রশ্ন করে এর উত্তর জেনে নিন।

★স্টেপ—২: অবশ্যম্ভাবী যা, তা গ্রহণ করতে তৈরি হোন। সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা ভাববার পর আপনার প্রথম কাজ‌ই হবে— এটিকে মেনে নেওয়া। নিজেকে বলুন, ‘এই ব্যর্থতা হয়তো আমার সুনামে আঘাত করবে এবং আমার চাকরিও চলে যাবে। ফলে আমি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’ তা যদি হয়ে যায় তবে আপনি অন্য কোন কাজ পেয়েও যেতে পারেন। আসল কথা হচ্ছে, আপনি যখন সবচেয়ে খারাপ কি হতে পারে তা মেনে নিবেন তখন আপনি বেশ হালকা বোধ করবেন এবং মনের দিক দিয়ে শান্তি ফিরে পাবেন। তাই দুশ্চিন্তা দূর করার দ্বিতীয় স্টেপ হচ্ছে, সবচেয়ে খরাপ যা হতে পারে তা মেনে নিন।

★স্টেপ—৩: তারপর শান্তভাবে চেষ্টা করুন খারাপ অবস্থা থেকে কিভাবে উন্নতি করা যায়। হ্যাঁ, দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য তৃতীয় স্টেপ এ এসে আপনার কাজ হচ্ছে— আপনি যখন থেকেই মেনে নিবেন আপনার জন্য সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কি হতে পারে তখন থেকেই নিজেকে একটু একটু করে উন্নত করার চেষ্টা করুন। চেষ্টা করুন, কিভাবে আপনার ক্ষতির পরিমাণ একটু কমিয়ে আনা যায়। এরপর ধীরে ধীরে শান্তভাবে সেখান থেকে নিজেকে উন্নত করতে থাকুন।

★দুশ্চিন্তা নিয়ে কিছু কথা— দুশ্চিন্তা আমাদের মনঃসংযোগ নষ্ট করে দেয়। আমরা যখন দুশ্চিন্তা করি তখন আমাদের মন এখানে ওখানে লাফ মেরে চলে আর আমরা মনস্থির করার শক্তি হারিয়ে ফেলি। আবার আমরা যখন খারাপ অবস্থাকে মনের দিক থেকে মেনে নেই আমরা তখন এলোমেলো চিন্তার হাত থেকে রেহাই পাই।

উপরে বর্ণিত উইলিস এইচ ক্যারিয়ারের এই ঐন্দ্রজালিক পদ্ধতিটি খুব‌ই মূল্যবান এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অনেক কার্যকরী। এর কারণ দুশ্চিন্তার ধূসর কালে মেঘ আমাদের গ্রাস করলে এ তা থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারে। আমাদের পায়ের তলায় শক্ত মাটি দিতে পারে। ফলে আমরা কোথায় তা জানতে পারি। আমাদের পায়ের তলায় মাটি না থাকলে সমস্যার সমাধান করবো কিভাবে? ব্যবহারিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস বেঁচে থাকলে তিনি এটিকে সমর্থন করতেন। কারণ তিনি তার ছাত্রদের বলেছেন— “যা ঘটে গেছে তাকে মেনে নাও। কারণ যা ঘটে গেছে তাকে মেনে নিলে তবেই দূর্ভাগ্য অতিক্রম করা যায়।”

চীনা দার্শনিক লিন ইয়াটুং বলেন— “সত্যিকারের মানসিক শান্তি আসে সবচাইতে খারাপ কে মেনে নিলে। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে আমি মনে করি এর অর্থ মুক্তি।” সত্যিই তাই!! সবচেয়ে খারাপকে মেনে নিলে আমাদের আর হারানোর কিছু থাক না। আর সঙ্গে সঙ্গে এর অর্থ দাঁড়ায়, আমাদের সবটাই লাভ। উইনিস এইচ ক্যারিয়ার বলেন— “আমি এতেই মানসিক শান্তি পেয়েছি। আমি তখন থেকে চিন্তাও করতে পেরেছি।”

লেখকঃ সাজ্জাদ হোসেন,
ডুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রী কলেজ,
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published.