দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলছে

” দেশজুড়ে শীতের মাত্রা বেড়েই চলছে”

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আগামী ৩ দিনে শীতের মাত্রা আরো বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যেতে পারে দেশের উত্তর – পশিমাঞ্চল।

এদিকে প্রচন্ড ঠান্ডায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চল। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশায় ঢেকে পড়েছে চারপাশের অঞ্চল। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এসে পুরো উত্তরাঞ্চলজুড়েই এখন শীতের দাপট। গত কয়েকদিন এমনই আবহাওয়া বিরাজ করছে কুড়িগ্রামে। দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বাড়িয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি।

শীত জেঁকে বসায় রংপুরের পাঁচ জেলায় প্রায় ১২ লাখ মানুষ এর শিকার। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এসব মানুষের অধিকাংশই ভাসমান-যাদের কোনো শীতবস্ত্র নেই। সরকারি এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে উত্তর জনপদের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিহীন ও অতিদরিদ্র পরিবারের যে জরিপ চালানো হয় তাতে দেখা গেছে, খুব শীতের সময় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিবারের দিনে গড় আয় ২৫ টাকা। এ কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এসব পরিবারের লোকজনের পক্ষে কোনোভাবেই নিত্যদিনের খাবার যোগানোর পর শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য থাকে না। পরিণতিতে তারা শীত নিবারনের জন্য চট, ছালা, খড়ের লেপ ব্যবহারসহ সারারাত ধরে অগ্নিকুণ্ড ব্যবহার করছে। একদিকে প্রচণ্ড শীত, অন্যদিকে কনকনে বাতাসে শীতের তীব্রতা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তাকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শীতে অভাবী মানুষের জীবন বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে। গরম কাপড় না থাকায় চরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ খড়-কুটো সংগ্রহ করছে। শীত নিবারনে রাতে তারা আগুন জ্বালিয়ে চেষ্টা করছে শরীরের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার।

দিনাজপুর গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রী রেকর্ড করা হয়েছে। তখন তাপমাত্র ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে আসতে পারে। ঠাণ্ডার তীব্রতা বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মৌলভীবাজারেও।

শীতের মাত্রা দেশের খবর সময়ের কথন
“আরো দুই তিন দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকবে”- আবহাওয়া অধিদপ্তর

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে দেশজুড়ে নেই অবস্থা আরো ২/৩ দিন চলবে। স্থানভেদে ২১ ও ২২ই ডিসেম্বর এর পর এই তীব্রতা কমে আসবে। এ ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দেখা দিতে পারে  মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *