পারিবারিক রাজনীতি দেশে পরিপক্ক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেঃ রাশেদ

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের রাজনীতি ও রাজনীতি সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে আজ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তার সম্পূর্ণ স্ট্যাটাসটি ‘সময়ের কথন’ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

এই দেশে রাজনীতির এমন অবস্থা-
আপনি যদি কোন রাজনৈতিক পরিবার, কোন এমপি, মন্ত্রী, মেয়রের সন্তান, ভাই বা নাতি হন, তবে আপনাকে রাজনীতি করে নেতা হতে হবেনা। আপনি বিদেশে পড়াশোনা করবেন, বিদেশের মাটিতে বিলাসী জীবন যাবন করবেন, এরপর দেশে এসে পারিবারিক সূত্রে বাবা- মামা- চাচা-দাদার রাজনৈতিক জায়গা/পদ দখল করবেন। আর আপনার বাবা-মামা-চাচা-দাদার পিছনে যে মানুষগুলো ছুটতো, ঠিক তারা আপনার পিছনে ছুটবে।

রাজনৈতিক গুণে এখানে নতুন কারও জায়গা হওয়ার কথা ছিলো, নেতৃত্বের গুণে ঐ পদে অন্য কারও আসীন হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিক রাজনীতির কারণে তা সম্ভব হলো না। আর এইগুলো দেখে আমাদের মতো আম- পাবলিকের মনে সবসময় প্রশ্ন জাগে রাজনীতি কি তাহলে কারও নিজস্ব সম্পত্তি? বাপ-দাদা নেতা না হতে পারলে নিজের জায়গাটা পরিপক্ব হবেনা, যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে না? এটা কেমন রাজনীতি?

আর পাবলিকই বা কেমন? আগে ছুটতো নেতার পিছনে, এখন নেতার অবর্তমানে নেতার ভাই, ছেলে/ নাতির পিছনে! এই পিছনে ছোটাছুটির নৈতিক দুর্বলতার কারণে যে পারিবারিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তা আমরা বুঝতেছি না। আর আপনার রাজনৈতিক গুণে যেখানে অধিষ্ঠিত হওয়া বা থাকার কথার ছিলো, সেটা নষ্ট হচ্ছে, তাও বুঝতেছি না।

নেতা নির্বাচিত হবে রাজনৈতিকদলের কর্মীদের ভোট। কিন্তু এমনভাবে সিস্টেম করা হয় যে, ঐ নেতাই বার বার নেতা নির্বাচিত হয়, বা তার ছেলে, ভাই/ নাতি। আর এই সিস্টেমের ফাঁদে ও পা দেয় কর্মীরা। আবার এখানে কারও সাহসও হয়না নেতার সাথে, নেতা ছেলে ভাই/ নাতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। আর এভাবেই খুব পরিপক্বভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে পারিবারিক রাজনীতি!!!

পারিবারিক রাজনীতি কি একটি দেশের জন্য ভাল? এনিয়ে আমাদের দেশে তেমন কোন গবেষণা নাই। আর এই গবেষণা করারও সাহস কারও নাই। কারণ যারা, যেখানে নেতার বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদেরই কপালে বারটা বাজবে।

এভাবে কোন দলের রাজনীতিই সুশৃঙ্খল, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন হয় না। দলের মধ্যে কর্মীর মূল্যায়ন না থাকলে সেই রাজনৈতিকদলও গণতান্ত্রিক হয় না। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘস্থায়ী রুপ দিতে, দেশ তথা মানুষের কল্যাণকর রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজ দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করে তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

আর রাজনৈতিক দলে সমালোচনাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নেতার সমালোচনা করতে না পারলে নেতা সঠিক না ভুল পথে আছে, এটাও সে বুঝতে পারেনা। রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র, সমালোচনা, জবাবদিহিতা এগুলো নেতাকেই সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় সব নেতাই যদি একই পথে হাটে তাহলে কোনদিন রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না, আর রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি পরিবর্তন না আসে তবে, সেই রাজনৈতিক দল দিয়েও জাতিরও কোন কল্যাণ হবে না।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!