ফ্রান্সে এ মাসেই আসতে পারে করোনার চতুর্থ ঢেউ

জুলাই মাসের শেষ দিকে ফ্রান্সে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে। দেশটির সরকারের মুখপাত্র স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, ডেলটা ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফ্রান্সে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের ৩০ শতাংশের মধ্যে ডেলটা ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আত্তাল ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে জানান, গত সপ্তাহে করোনাভাইরাসের মহামারি আবার বেড়েছে। এ মাসের শেষে চতুর্থ ঢেউয়ের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সময় গত রোববার ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভার ভেরানও একই সতর্কতা জারি করেন।

ভারতে প্রথম করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়। এরপর যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ।
ফ্রান্সের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও অনেকে টিকা নিচ্ছেন না। এটি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।
ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আত্তাল বলেন, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে। ফ্রান্সেও পরিস্থিতি সেদিকে যাচ্ছে।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সে প্রতি এক লাখে ২১ জন মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। গত সপ্তাহের তুলনায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিতের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভার ভেরান টুইটে সতর্কতা জারি করে বলেন, জুলাই মাসের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, টিকাদান, করোনা পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় রোববার জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে ফ্রান্সে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ চলাকালে দৈনিক সংক্রমণ ৩৫ হাজারের বেশিতে পৌঁছেছে।
ফ্রান্স সরকার টিকা বাধ্যতামূলক করার পরও দেশটির ৩৬ শতাংশ জনগণ করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স এ সপ্তাহে স্থানীয় কর্মকর্তা ও পার্লামেন্টে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি টিকা নিয়ে আলোচনা করবেন।


দ্য ফ্রেঞ্চ হসপিটালস ফেডারেশন (এফএইচএফ) বলছে, হাসপাতালের কর্মীদের ৬৪ শতাংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণদের অনেকে টিকা নিতে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *