বাস ছাড়ার কথা শনিবার রাতে, ছেড়েছে আজ সকালে

গাবতলী বাস টার্মিনালের ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে সকাল ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১৪টি বাস ছাড়ার কথা। অথচ দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে না পৌঁছানোয় কেবল চারটি বাস কাউন্টার থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। বাস কাউন্টারের কর্মকর্তারা বলছেন, ফেরিঘাট ও মহাসড়কে যানজট থাকায় সময়মতো বাস টার্মিনালে আসছে না। তাঁরা সময়মতো বাস ছাড়তেও পারছেন না।

এদিকে সময়মতো বাস না ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের। তাঁরা গাবতলী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। বাস সময়সূচি অনুযায়ী না ছাড়ায় যেসব পরিবহন কোম্পানি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে, সেসব পরিবহনের যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালের অন্তত সাতটি বাস কোম্পানির টিকিট বিক্রেতারা জানান, দুই দিন ধরে বাস সময়মতো টার্মিনালে আসতে পারছে না। ফেরিঘাটে ও মহাসড়কে যানজটের কারণে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে জানানো হয়, মহাসড়কে যানজটের কারণে গতকাল শনিবার রাতের চারটি বাস আজ রোববার সকালে ছাড়া হয়েছে। হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, সকাল থেকে হানিফের সাতটি বাস দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। অথচ সময়সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ৩০টি বাস কাউন্টার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ঈগল পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, আজ সকাল থেকে ১৪টি বাস ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মাত্র চারটি বাস টার্মিনালে এসে পৌঁছাতে পেরেছে। তাই চারটি বাস ছেড়ে গেছে।

রয়েল এক্সপ্রেসে করে চুয়াডাঙ্গা যাবেন নেয়ামুল করিম। তাঁর বাস সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা। অথচ বেলা একটাতেও বাসটি গাবতলী টার্মিনালে এসে পৌঁছায়নি। নেয়ামুল বলেন, যানজটের কারণে বাস পৌঁছাচ্ছে না। তাহলে কাউন্টার থেকে আগে বললেই হতো। টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে গরমে ভোগান্তিতে পড়ার তো কোনো মানে হয় না।

গরমে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
গরমে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ঈগল পরিবহনের ব্যবস্থাপক মোজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কোরবানির গরুর ট্রাক ঢাকায় ঢুকছে। এ কারণে ফেরিঘাটে প্রচুর যানজট। মহাসড়কে যানজট আছে। ফলে শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যেসব পরিবহন অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে, তারা সবচেয়ে বিপাকে পড়ছে। আমরা অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছি। বাস এলে তারপর টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যাঁরা আগে টিকিট নিয়েছেন, যাত্রার বিলম্বের বিষয়টি তাঁদের আগেভাগে ফোন করে বলে দেওয়া হচ্ছে।’

সকাল থেকে ১০টি বাস ছাড়ার কথা সৌখিন পরিবহনের। অথচ দুটি বাস ছেড়ে গেছে বলে জানান কাউন্টারমাস্টার মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল রাতের গাড়ি এখনো টার্মিনালে এসে পৌঁছায়নি। বড় যানজট হচ্ছে ফেরিঘাটে। ঘাট পার হলেও মানিকগঞ্জ, কামালপুর, নবীনগরে সড়কে যানজট আছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যাত্রার পূর্বে বাসগুলোকে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথা। বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করার কথা। গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দেখা যায়, অন্তত ১২টি বাস দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়েছে। অথচ এগুলো একটারও যাত্রার পূর্বে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়নি। কয়েকটি বাসের ভেতরে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকলেও তা যাত্রীদের দিতে দেখা যায়নি। যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো কোনো বাসে ডাবল ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং বাসের ভেতরে পাশাপাশি দুই আসনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসডি পরিবহনে করে ঝিনাইদহ যাচ্ছেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাস কোম্পানিগুলো ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। টিকিট কাটার আগে বলেছিল, পাশের আসনে কেউ থাকবে না। এখন বাসে উঠে দেখি পাশের সিটেও যাত্রী। তাহলে স্বাস্থ্যবিধির নামে বাড়তি ভাড়া কেন নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বাসে ওঠার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও ছিল না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, ঈদের আগে মহাসড়কে ও ফেরিঘাটে এমন যানজট থাকায় দূরপাল্লার বাসের শিডিউল অনুযায়ী ছাড়া যাচ্ছে না। প্রতিটি বাস দেড় থেকে সাত ঘণ্টার দেরিতে ছাড়ছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপও অনেক। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশকে আরও তৎপর হতে হবে। যানজট কমানো না গেলে ঈদে সময়মতো বাড়ি পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে। দূরপাল্লার বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে বলে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতার দাবি।

source- prothom alo

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *