সিআর (CR) নিয়ে যত ভাবনা!

​কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভার্সিটিতে গেলে আমরা সকলেই সিআর শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হই। সিআর (CR) এর পূর্ণরূপ ক্লাস রিপ্রেজেন্টিটিভ। ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে শব্দটি নতুন হলেও এর কার্য পরিধি সম্পর্কে আমরা ছোটবেলা থেকেই অবগত। ছোটবেলায় আমরা যাকে ক্লাস ক্যাপ্টেন বলতাম আর সে বড় হয়ে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ।

​সিআর হওয়া মানে ক্লাসে একটা অতিরিক্ত কাজের ভার নেওয়া। তারপরো অনেকেই না জেনেই সেই ভার গ্রহণে ইচ্ছা পোষণ করে। কথায় ছিল “দিল্লীকা লাড্ডু খাইলেও পস্তাবে না খেলেও পস্তাবে “। তারপরো কেন এত ইচ্ছা তা আমরা নিচের অংশে জানবো। হ্যা, বিভিন্ন জায়গায় এই পদের বিপরীতে ছোটখাটো ভোটের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

​এমপি মন্ত্রী কিংবা চেয়ারম্যান মেম্বাররা নির্বাচিত হলে কিছু না কিছু ফায়দা অবশ্যই পায়, সেই সাথে একটা পদমর্যাদা। সেই সুবাদে অনেকেরই ধারণা  সিআর যেহেতু একজন নির্বাচিত ব্যক্তি তাই সেও হয়তো এমন কিছু ফায়দা/ সুবিধা পেয়ে থাকে। এর কারণে অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনেকেই এই পদের পিছনে পরে থাকে।

​সবাই এই ধারণাটি একেবারেই মিথ্যে। দুর থেকে এমনটা মনে হলেও আসলে এর কোন সুবিধা/ ফায়দা নেই। এমনকি অন্যান্য নির্বাচিত লোকদের মতো পিছনে দু-চারজন নিয়ে  নেতামি করবে সে সুযোগটাও নেই। তবে হ্যাঁ, চাইলে সিভিতে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসেবে এটা অ্যাড করা যেতেই পারে। তবে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে সেটাই ভাববার বিষয়।​ তাছাড়া কেউ যদি সিআর হয়ে কোন সুবিধা পেয়েও খাকে তবে তা হতে পারে পেছনে ঘুরা স্বভাবের কারণে এই পদের জন্য না।​

কেউ যদি এই পদে সুবিধা ভোগ করতে চায় তবে তাদের উচিত হবে “ইউনিভার্সিটি সিআর অ্যাসোসিয়েশন ” খুলে ফেলা। যার ফলে সকল সিআর-রা তাদের দাবি-দাওয়া উপস্থাপন ও প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করতে পারবে। 

অতএব আশা করব জুনিয়ররা এখন থেকে আর এই সকল পদ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে না। সিআর যেই হোক আমাদের ভাবনা থাকবে ভালো রেজাল্ট ও ভালো মানুষ হওয়া।

আশরাফ সিদ্দিকী
ইন্সট্রাক্টর, মুসলিম এইড পলিটেকনিক।
শিক্ষার্থী, কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *