সিনোফার্মের কাছ থেকে কেনা আরও ২০ লাখ টিকা দেশে

চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে কেনা করোনাভাইরাসের আরও ২০ লাখ টিকা দেশে এসেছে। গতকাল শনিবার রাতে দুই দফায় এই টিকার চালান বাংলাদেশে আসে।

বাংলাদেশ বিমানের দুটি পৃথক ফ্লাইটে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

১০ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার পর। অপর ১০ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে দিবাগত রাত তিনটার দিকে।

এর আগে বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টিকার চালান নিয়ে উড়োজাহাজ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে সেই তথ্য বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানায়।

চীনের কাছ থেকে কেনা টিকার দ্বিতীয় চালান এটি। চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে তিন মাসে দেড় কোটি টিকা কিনছে সরকার। সে অনুযায়ী, ১ জুলাই দুটি ফ্লাইটে ২০ লাখ টিকা বাংলাদেশে আসে। আর গতকাল এল আরও ২০ লাখ টিকা। চীন আগামী আগস্টে আরও ৪০ থেকে ৫০ লাখ টিকা পাঠাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন।

কেনার বাইরে বাংলাদেশকে দুই দফায় উপহার হিসেবে চীন সিনোফার্মের ১১ লাখ টিকা দিয়েছে। চীন গত মে মাসে সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ উপহারের টিকা প্রথম বাংলাদেশে পাঠায়। চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ছয় লাখ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসে জুনে।

বাংলাদেশ বিমানের দুটি পৃথক ফ্লাইটে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা গতকাল দেশে এসেছে।
বাংলাদেশ বিমানের দুটি পৃথক ফ্লাইটে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা গতকাল দেশে এসেছে।

কাল সোমবারের মধ্যে দেশে আরও ৩০ লাখ টিকা আসছে। এই ৩০ লাখ টিকা বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যা মডার্নার তৈরি। আশা করা হচ্ছে, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এই ৩০ লাখসহ মোট ১ কোটি ২৯ লাখ টিকা আসবে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে।

রাশিয়া থেকে পাওয়া যেতে পারে ১০ লাখ টিকা। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টিকার সংস্থান হতে পারে অন্তত দুই কোটি ডোজ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে নিতে আপাতত টিকার সংকটে পড়তে হবে না।

বাংলাদেশ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল গত ৭ ফেব্রুয়ারি। টিকার উৎস ছিল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারত গত মার্চে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হয়। ২৫ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া বন্ধ ছিল, যা চালু হয় চলতি মাসে।

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। গতকাল বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গতকাল পর্যন্ত ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ১৩৪ জনকে টিকার প্রথম ডোজ ও ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৭ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।

সরকার এখন ৩৫ বছর বা এর বেশি বয়সী মানুষকে টিকার জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ দিচ্ছে। তবে ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সী সব মানুষকে টিকা নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার চিন্তার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

source- prothom alo

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *